|
জনগনের
সার্থেই সরকারের বাড়িটি ফেরত দিলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ রেহানা
তৈয়বুর রহমান
টনি, নিউইয়র্ক (রবিবার ১১ মার্চ ২০১২, ২৭ ফাল্গুন ১৪১৮, ১৭ রবিউস
সানি ১৪৩৩):- শনিবার বাড়িটি হস্তান্তর শেষে আবেগাপ্লুত শেখ রেহানা
নিজেই বলেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, জাতির জনকের কন্যা।এ থেকে
জনগণের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই শেখ রেহানা বাড়িটি সরকারকে দিয়ে
দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের দেওয়া বাড়িটি আবার সরকারকেই ফেরত
দিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর
সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ধানমণ্ডি এলাকার ওই
বাড়িটি হস্তান্তর করেন তিনি। বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
সামনেই বাড়িটি ফেরত দেওয়ার দলিলে সই করেন শেখ রেহানা। ২০০১ সালে
ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বাড়ি নং- ২১ (নতুন), সড়ক নং-৬ (৪১/এ পুরাতন)
ঠিকানায় এক বিঘার এই পরিত্যক্ত বাড়িটি প্রতীকী মূল্যে শেখ রেহানাকে
দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ধানমন্ডি থানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বাড়িটি।
হস্তান্তরের সময় শেখ রেহানা বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, এমন বাড়ি
আমার কোনো প্রয়োজনে আসছে না। তাই এটি ফেরত দিলাম।’আবেগ জড়িত কণ্ঠে
তিনি বলেন, ‘যখন একা ছিলাম তখন কেউ ছিলো না। লেখা পড়াও শেষ করতে
পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমি কোনো পলিটিক্সে (রাজনীতি) নেই। এই নিয়ে
আবার কেস (মামলা) খেতে হতে পারে। এর মধ্যে আমি নেই।’
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাড়িটি হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে আমরা
ভারমুক্ত হলাম।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, গণপূর্ত
প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান পুলিশের আইজিপি হাসান
মাহমুদ খন্দকার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড,সিদ্দিকুর
রহামান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান
সাজ্জাদ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়ার যুগ্নো সাধারন
সম্পাদক নিজাম চৌধুরী,গণপূর্ত সচিবসহ সরকারের ও দলের সংশ্লিষ্টরা
বাড়িটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন।আইজিপি বলেন, জমিটি আমরা
ফেরত দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেখ রেহানা তা নিতে চাননি। অনেক আগেই
ফেরত দিয়ে দিয়েছেন। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হলো।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তৎকালীন সরকারের
মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০১ সালের ১১ জুলাই ধানমন্ডি
আবাসিক এলাকার এক বিঘার একটি পরিত্যক্ত বাড়িটি (বাড়ি নং ৪১/এ (পুরাতন)
২১ (নতুন), সড়ক নং-৬) প্রতীকী মূল্যে জাতির পিতার কন্যা হিসেবে শেখ
রেহানার নিকট বিক্রয় দলিল সম্পাদন, রেজিস্ট্রেশন ও নামজারী করা হয়।
শেখ রেহানার কোনো বাড়িঘর না থাকায় সরকার তাঁকে এই বাড়িটি দেয়ার
সিদ্ধান্ত নেয়।বাসস জানায় : বিগত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০২
সালে বাড়িটি দখল করে নেয় এবং সেখানে ধানমন্ডি থানা করে। শেখ রেহানা
সরকারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রীট মামলা করে। আদালতে মামলা
চলাকালে সরকার বাড়িটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে
হস্তান্তর করে।বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ সালের ২৩ জুন এই বাড়িতে
ধানমন্ডি থানা উদ্বোধন করেন। বিএনপি সরকার পরে বাড়িটির এক কাঠা জমি
বিচারপতি কেএম হাসানকে দেন।বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার
পর শেখ রেহানা তাঁর রীট মামলা প্রত্যাহার করে নেন এবং বাড়ির
মালিকানা সরকারকে ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
|