|
বাংলাদেশ
দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি’তে “বাংলাদেশ-ইউএসএ ইকোনোমিক রিলেশনস এন্ড
ইনভেষ্টমেন্ট প্রসপেক্টস ডেইজ এহেড” শীর্ষক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত
বিডিএনএন২৪,
ওয়াশিংটন ডিসি (শুক্রবার ৬ এপ্রিল ২০১২, ২২ চৈত্র ১৪১৮, ১৩ জমাদিউল
আউয়াল ১৪৩৩):- বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্টের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের
৪০ বছর পূর্তি উদযাপনে ৫ এপ্রিল ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের
বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে ”“বাংলাদেশ-ইউএসএ ইকোনোমিক রিলেশনস এন্ড
ইনভেষ্টমেন্ট প্রসপেক্টস ডেইজ এহেড”” শীর্ষক এক সিম্পোজিয়াম
অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কোম্পানী,
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন এজেন্সী ও থিংকট্যাক প্রতিনিধিবৃন্ধ
এবং কতিপয় দেশের কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ইউ এস
ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স এর দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক মিস লিন্ডা ডরকার
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং সেভরন করপোরেশনের মিস লরা হাডসন (ম্যানেজার,
ইন্টারন্যাশনাল গভর্ণমেন্ট এ্যাফেয়ার্স )অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠানে প্যানেলিষ্ট হিসাবে ছিলেন - এড গ্রিজার (পরিচালক,
প্রগ্রেসিভ ইকোনোমি যা ডিসি ভিত্তিক ট্রেড রিসার্ড সংস্থা হিসাবে
কাজ করে), শামরুখ মহিউদ্দীন (এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর, ইউএস বাংলাদেশ
এডভাইজারি কাউন্সিল), ম্যাথু এস ষ্টাম্প (ডিরেক্টর, এশিয়া সোসাইটি
অব ওয়াশিংটন ডিসি), অধ্যাপক পল মাজুসি (এমিরেটাস প্রফেসর অব
কেমিষ্ট্রি এন্ড বায়োকেমিষ্টি, ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড),
ষ্টানলি সার্ফল (কনজুমার সেফ্টি অফিসার, ফুড সেফ্টি ডিভিশন,
ইউএসএফডিএ) এবং ক্যারোলীন এল ব্রেহম (ভিপি, গ্লোবাল গভর্ণমেন্ট
রিলেশন্স, প্রক্টর এন্ডগ্যাম্বল)। যুক্তরাষ্টে নিযুক্ত বাংলাদেশের
রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিমন্ত্রী জনাব আকরামুল কাদের অনুষ্ঠানে স্বাগত
বক্তব্য প্রদান করেন।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উল্লেখ করে
রাষ্ট্রদূত কাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশের অধিকতর উন্নয়নে গৃহীত
বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব
পলিসি রেজিম এর সুযোগ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রস্থ কোম্পানীসমূহকে
স্মরণ করিয়ে দেন। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগের উত্তরোত্তর
প্রবৃদ্ধিতে সেতাষ প্রকাশ করে তিনি বাংলাদেশের তৈরী পোশাক পণ্যে
শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন। সংশ্লিষ্ট
সব ষ্টেকহোল্ডারদের পারস্পরিক সুবিধার লক্ষ্যে তিনি
যুক্তরাষ্ট্রস্থ কোম্পানী সমূহকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আহ্বান
জানান।
মিস লিন্ডা
ডরকার তাঁর উপস্থাপনাপত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে
বিকাশমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর আলোকপাত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র
ভিত্তিক কোম্পানীর জন্য বাংলাদেশ ব্যবসা করতে কতিপয় চ্যালেঞ্জ ও
সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি আমেরিকান কোম্পানীসমূহের সুবিধার্থে
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কতিপয় সহায়তামূলক স্কীমের বর্ণনা দেন যেগুলো
বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজারে প্রবেশে তাদেরকে সহায়তা করবে।
শামরুখ মহিউদ্দীন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য ও
অর্থনৈতিক সম্পর্কের সুফল তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে সে সম্পর্ক আরো
সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যখন আগামী ১০ বছর পরে দু’দেশ
তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এড গ্রিজার
জিএসপি প্রোগ্রাম এর গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এতে টেক্সটাইল সামগ্রী
অন্তর্ভূক্তিতে সুপারিশ করেন যাতে করে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশ
অধিকতর সুবিধা পেতে পারে। এশিয়া সোসাইটির ম্যাথু এস ষ্টাম দক্ষিণ
এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ গ্রহণের
উপর তাগিদ প্রদান করেন। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত
ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ে ইউএসডিএ জেস জয়েন্ট ইনিষ্টিটিউট অফ ফুড সেইফটি
এন্ড এপ্লাইড নিউটিন্সশান কর্তৃক পরিচালিত বিদ্যমান সহযোগিতা
সম্পর্কে ষ্টানলি সার্ফলিং এবং অধ্যাপক পল মাজুসি বক্তব্য প্রদান
করেন। বাংলাদেশী ভোক্তাদের স্বার্থে কনজুমার প্রডাক্টস এর উপর
বিদ্যমান আমদানি শুল্ক কাঠামো সংশোধনের উপরে ক্যারোলীন এল ব্রেহম
গুরুত্ব আরোপ করেন। উপস্থাপনার শেষ পর্যায়ে এক প্রানবন্ত
প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বর্ণিত সিম্পোজিয়ামটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক
সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তিতে দূতাবাস আয়োজিত ৭ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের
অংশ হিসাবে অনুষ্ঠিত হয়, যা ওয়াশিংটন ডিসিস্থ শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তা
ও পলিসি প্রনেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
|