|
জিয়াউর
রহমানের ৩১তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সুইডেন বিএনপির উদ্যোগে
আলোচনা ও দোয়া মহফিল
এ এস খান,
ষ্টকহোম (বৃহষ্পতিবার ৭ জুন ২০১২, ২৪ জৈষ্ঠ্য ১৪১৯, ১৬ রজব
১৪৩৩):- মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দল
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩১তম
শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩রা জুন,২০১২ রোজ রবিবার রিংকেবীস
ভ্যাগেনস্থ একটি লোকালে সুইডেন বিএনপির উদ্যোগে সর্ব ইউরোপীয়
বিএনপির আহ্বায়ক ও সুইডেন বিএনপির সভাপতি জনাব মহিউদ্দিন
আহম্মদ ঝিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক জনাব এমদাদ হোসেন
কচির উপস্থাপনায় একটি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয় মাহফিল পরিচালনা করেন রিংকেবী মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা
মোঃ সাইফুদ্দিন। দোয় ও মিলাদ শেষে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন
সুইডেন বিএনপির সহ সভাপতি জনাব হাজী কামাল হোসেন তালুকদার,
সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব আকতারুজ্জামান সিকদার ফন,ু বিএনপি
ষ্টকহোম নগর কমিটির সভাপতি জনাব নাজমুল সিপার, বিএনপি নেতা
জনাব হেলাল উদ্দিন হেলু ও জনাব স্বপন।

জনাব
মহিউদ্দিন আহম্মদ ঝিন্টু সভাপতির ভাষনে স্মৃতি চারন করতে গিয়ে
বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে খুব কাছ থেকে দেখার
সুযোগ হয়েছিল। আমি ৭৫এর পট পরিবর্তনের পুর্বে জাসদের সাথে
রাজনীতি করতাম। আপনারা জানেন, তখন জাসদের নেতা-কর্মিদের উপরে
পুলিশ ও রক্ষীবাহিনী নির্বিচারে গুম, হত্যা, জুলুম ও নির্জাতন
চালাত। তাই আমি তখন রক্ষী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচার জন্য আবদুর
রশিদ নামে জেনারেল জিয়াউর রহমানের একজন ঘনিষ্ট বন্ধুর সাথে
যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাথে
সাক্ষ্যাত করান এবং জিয়াউর রহমান আমাকে ঢাকা ছেড়ে অন্য কোথাও
গিয়ে পালিয়ে থাকার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ মোতাবেক আমি
খুলনায় গিয়ে পালিয়ে থাকি। ইতিমধ্যে ৭৫এর ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিবুর
রহমানের হত্যাকান্ডের মাধ্যমে মুজিব সরকারের পতন ঘটলে আমি
ঢাকায় ফিরে আসি। তারপর ৭ই নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের মাধ্যমে
মহান স্বাধীনতার ঘোষক জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশে চরম সংকটময়
অবস্থায় রাজনীতিতে আসেন। আমি আমার পুর্ব পরিচিতি নিয়ে তার সাথে
দেখা করলে তিনি দেশ গড়ার কাজে যুবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তখন আমরা ঢাকায় জাগো যুব দল গঠন করি। এর
পর জাগোদল বাদ দিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশী
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গঠিত হয়। আমরা তখন ঢাকায় যুব দল গঠন করি
এবং ঢাকার ১২টি থানায় যুব দলকে সংগঠিত করি এবং আমাকে ঢাকা
মহানগর যুব দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়ীত্ব দেয়া হয়।
এভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর হাত ধরে আমি রাজনীতিতে আসি।
এখানে একটা
বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মধ্যে ছিল
অগাধ দেশপ্রেম এবং তিনি দেশের মানুষকে ভাল বাসতেন। তিনি ছিলেন
একজন সৎ, সাহসী ও দূরদর্শি নেতা। তিনি দেশের মানুষ ও যুব
শ্রেনীকে উন্নয়নের কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাতেন এবং
উৎসাহ দিতেন রাজনীতিতে অংশ প্রহন করার জন্য। আজ তার ৩১তম
শাহাদাত বার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার হবে, শহীদ রাষ্ট্রপতি
জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত আদর্শের সৈনিক হিসাবে দেশ-বিদেশে
কাজ করে যাব। ইউরোপের ১৬টি দেশে বিএপির সংগঠন রয়েছে। আমরা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গনতন্ত্র ও মানবাধিকার
রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কার করে যাব ইনশাল্লাহ।
তিনি আরো
বলেন, আওয়ামী লীগ বিএপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, বিএনপি নাকি
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে চায়। অথচ যে সব রাজাকাররা
মুক্তি যুদ্ধের সময় লক্ষ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে,
মুক্তি যোদ্ধা সহ লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে। একদিকে শেখ
মুজিবুর রহমান তাদেরকে সাধারন ক্ষমা দিয়ে জাতির সাথে বেইমানি
করেছেন এবং অপরদিকে স্বেচ্ছায় পাক বাহিনীর হাতে ধরা দিয়ে মুক্তি
যুদ্ধে অংশ গ্রহন না করে প্রমান করেছেন যে, তিনিই ছিলেন এক
নম্বর রাজাকার।
তিনি বলেন,
সেদিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা না দিলে,
হয়তো আমরা স্বাধীনতা পেতাম না বা স্বাধীনতা যুদ্ধ বিলম্বিত হয়ে
নয় বছর লেগে যেত। জনাব কামাল হোসেন তালুকদার বলেন, শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়উর রহমানের মত একজন মহন নেতা স্বাধীনতার পর থেকে
আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে আসেনি। এখন টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া
পর্যন্ত দেশবাসী আজ তার কথা স্বরন করছে। আজ শহীদ জিয়ার আদর্শের
রাজনীতি করার সময় এসেছে। ইতিপুর্বে যারা তার ও দলের নাম ভাংগিয়ে
খেয়েছেন, এখন আর সে সুযোগ নেই।
জনাব
হেলাল উদ্দিন হেলু বলেন, দেশের জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ
দূর্নীতি,সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, এক দলীয় শাসন পরে বাকশাল কায়েম
করে গনতন্ত্র হরন করেছিল। তাই তার মৃত্যুও পরে কেউ
ইন্নালিল্লাহ পড়ে নাই। আমাদের জাতীয়তাবাদী মহান নেতা,
স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে গনতন্ত্র ও
সুখ-সম্মৃদ্ধি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাই তার যানাজায় লক্ষ লক্ষ
লোক শরীক হয়েছিল। উক্ত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত
ছিলেন, সুইডেন বিএনপির সহ সভাপতি জনাব সফি আকন্দ, সহ সভাপতি
জনাব ফজলুল জব্বার বাহার, দপ্তর সম্পাদক জনাব নাজমুল বাহার
শরীফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, প্রবাসী বাংলাদেশী ঐক্য পরিষদ
সুইডেন শাখার আহ্বায়ক জনাব ফকরুদ্দিন আহমেদ, জনাব শওকত হোসেন,
ডঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, জনাব এনামুল মাজেদ চৌধূরী ও দোয়েলের সভাপতি
জনাব আতাহার হোসেন খান কচি।
|