|
মীর কাশেম
আলী গ্রেপ্তার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির
বিডিএনএন২৪,
ঢাকা (রবিবার ১৭ জুন ২০১২, ২ আষাড় ১৪১৯, ২৬ রজব ১৪৩৩):-
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে
জামায়াতের ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মিডিয়া ডন হিসাবে
পরিচিত মীর কাশেম আলীকে গ্রেপ্তার করেছে মতিঝিল থানা পুলিশ। এর
পর বিকেলে তাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা
হয়। বর্তমানে তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। আজ
রোববার বিকেলে পৌনে চারটার দিকে মতিঝিলের দিগন্ত মিডিয়া
কার্যালয় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের জনসংযোগ
শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান।

এর আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১
আজ মীর কাশেম আলীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। বিচারপতি নিজামুল
হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। মীর
কাশেম আলীকে গ্রেপ্তারের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে আজ বেলা দু’টায় শুনানি হয়। শুনানিতে
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রানা দাসগুপ্ত বলেন, মীর কাশেম আলী
প্রভাবশালী লোক হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার
করা প্রয়োজন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির করেন। এর আগে সকালে ট্রাইব্যুনালের
রেজিস্ট্রারের কাছে গ্রেপ্তারের জন্য এ আবেদন জমা দেন
প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।
প্রসিকিউশনের আবেদনে বলা হয়, দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের
চেয়ারম্যান মীর কাশেম আলী একাত্তরে বাংলাদেশের
স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতাকারী আলবদর
বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় একাত্তরে
চট্টগ্রামে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটসহ বিভিন্ন ধরনের
মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটানো হয়। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের মীর
কাশেমকে একাত্তরে চট্টগ্রামের মানুষ চিনতো মিন্টু নামে।
কলেজছাত্র থাকাকালে সেখানেই তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে
যুক্ত হন। পরে জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের দায়িত্বও
নেন। মীর কাসেমের নির্দেশেই চট্টগ্রামে রাজাকার বাহিনীর
ক্যাম্পে বহু লোককে হত্যা ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশের যে
বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে, তার তালিকা তৈরিতে মীর কাশেমও ছিলেন।
বাংলাদেশ
স্বাধীন হওয়ার পর মীর কাশেম পালিয়ে সৌদি আরবে চলে যান। আবার
দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার
পর। মীর কাশেম বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক, ইবনে সিনা
ট্রাস্টের সদস্য এবং বেসরকারি সংস্থা রাবেতা আলম আল ইসলামীর
পরিচালকের দায়িত্বেও রয়েছেন। এর আগে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারির
পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু
বিডিএনএন২৪কে বলেন, কাশেম আলীকে আদালতের নিদের্শনা অনুযায়ী
গ্রেপ্তার করে ট্রাইবুনালে হাজির করার জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ
শুরু করেছে। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর
সাবেক ও বর্তমান আমীরসহ ৬ শীর্ষ নেতা ও দুই বিএনপি নেতার বিচার
চলছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনা বাহিনী ও
তাদের দেশীয় দোসরদের হাতে ৩০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান।
|