|
আইন প্রণয়নে বিভিন্ন
দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে : আইনমন্ত্রী
ঢাকা, ২৭ জুন (বিডিএনএন২৪)
: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন,
বাংলাদেশে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণের জন্য আইনের প্রাসঙ্গিকতা ও আইনে
প্রবেশগম্যতা বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থ ও আন্তর্জাতিক ধারার
সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার
ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে।’ তিনি বিভিন্ন দেশের মধ্যে আইন প্রণয়ন বিষয়ক
পারস্পরিক তথ্য, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ
সৃষ্টি হলে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা
রাখবে উল্লেখ করে পারস্পরিক আইনি সহায়তা বিষয়ক আইন বাস্তবায়নে আন্তঃএশিয়া
সহযোগিতা স্থাপনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইনমন্ত্রী আজ দক্ষিণ
কোরিয়ার গোয়াং শহরের কিনটেক্স হোটেলে অনুষ্ঠানরত লেজিসলেটিভ
ইনফরমেশন(এএফওএলআইএ-এফোলিয়া) বিষয়ক দ্বিতীয় এশীয় ফোরামের প্লিনারী অধিবেশনে
বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন। আজ থেকে শুরু হওয়া ফোরামের অধিবেশন ২৯ জুন
পর্যন্ত চলবে। ফোরামের অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার
প্রধানমন্ত্রী কিম হুয়াং-সিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার
গভর্ণমেন্ট লেজিসলেশন মন্ত্রী সুন-তাই জিয়ং এবং কোরিয়ান পাবলিক ল’
এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জুন-হিয়াং হং বক্তব্য রাখেন।
অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ
উপস্থাপন করেন সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক
দাই-কোন চোই। দক্ষিণ কোরিয়াসহ বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, কাডিয়া, ইউক্রেন, জাপান,
চীন, মায়ানমার, উজবেকিস্তান, নেপাল ও ভিয়েতনামের মন্ত্রীবৃন্দ ফোরামে অংশ
নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এফোলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। অধিবেশনে
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশে আইন প্রণয়ন পদ্ধতি, সংসদে আইন পাশের
পদ্ধতি, আইন চূড়ান্তকরণে মন্ত্রিসভা, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকারের অন্যান্য
মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা, আইন পাশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা এবং আইন
মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, দ্রুত
আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের মধ্যে
পারস্পরিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য বিনিময় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন
দেশের অর্থপাচার সন্ত্রাস প্রতিরোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, টেকসই অর্থনৈতিক
অগ্রগতি অর্জন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এ বিনিময়
ফলপ্রসূ ভূমিকা পালনে সক্ষম। ব্যারিস্টার শফিক বলেন, এ ফোরাম কার্যকর আইন
প্রণয়নের মাধ্যমে এশিয়ার দেশগুলোর সহাবস্থান ও সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরী করবে।
শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা সুরক্ষা ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখতে এফোলিয়া
অনন্য ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরে ফোরামের
অনুষ্ঠানস্থলে আইনমন্ত্রী কোরিয়া চে¤¦ার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (কেসিসিআই)
চেয়ারম্যানের দেয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি
বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি
আহ্বান জানান।
|